মৌষলকাল উপন্যাস Pdf Download

moushalkal bengali book pdf free download in bangladesh

moushalkal bangla book pdf free download মৌষলকাল সমরেশ মজুমদার pdf

বইয়ের নাম: মৌষলকাল
লেখক : সমরেশ মজুমদার
পৃষ্ঠা :৩৯২

বই রিভিউ

বাংলা সাহিত্যের এক যুগলবন্দী জুটি অনিমেষ -মাধবীলতা।অনিমেষ-মাধবীলতার কথা শোনেনি এমন পাঠক খুঁজে পাওয়া বিরল। সমরেশ মজুমদারের বিখ্যাত সৃষ্টির মধ্যে অন্যতম সৃষ্টি অনিমেষ-মাধবীলতা সিরিজ। চারটি উপন্যাস নিয়ে গঠিত এই সিরিজ পাঠক মহলে ব্যাপক সাড়া জাগায়।উত্তরাধিকার- কালবেলা-কালপুরুষ-মৌষলকাল চারটি উপন্যাস নিয়ে এই সিরিজ।প্রথম তিনটি উপন্যাসে অনিমেষের শৈশব-কৈশোর, যৌবন এই তিন কালের জীবনপ্রবাহমান ফুটে উঠে।অনিমেষ নকশাল রাজনীতিতে জড়িয়ে পরে।এরই মধ্যে মাধবীলতা তার জীবনে আসে।রাজনীতির মত সে মনে করে মাধবীলতাকে আবিষ্কার করাও একটা বিপ্লব।মাধবীলতা অনিমেষকে ভালোবাসে,বিশ্বাস করে।কিন্তু কখনো তাকে আঁচলে বেঁধে রাখতে চায়নি।অনিমেষ যে পথে চলেছে সে পথের সারথি হয়ে থেকেছে।তাকে সবসময় সমর্থন করে গেছে।সারাজীবন পাশে থেকে আগলে রাখার চেষ্টা করেছে।তাদের দুজনের ভালোবাসার ফল সরূপ অর্ক আসে।একসময় বিপথে যেতে যেতেও থেমে যায় অর্ক।যেহেতু অনিমেষ – মাধবীলতার মত বাবা-মা তার আছে,সেহেতু তাদের আদর্শ অর্ককে বিপথে যেতে দেয়নি।অনিমেষ যা করতে পারেনি তা অর্ক করতে চেয়েছিলো।চেয়েছিলো সাধারণ গরীব দুঃখী মানুষের পাশে থাকতে।তাঁদের বেঁচে থাকার ধরণ পালটে দিতে।কিন্তু সেখানেও আসে বাঁধা।ঘৃণ্য রাজনীতির ছোবলে পরে সেও বরাবরই ব্যর্থ হয়।তারই পরিপ্রেক্ষিতে এই সিরিজের শেষ উপন্যাস মৌষলকাল। এখানে অনিমেষ – মাধবীলতা ষাটোর্ধ্ব বয়সে এসে পরে।আর অর্ক চল্লিশ বছরের পৌর যুবক।রাজনীতি থেকে সরে এসে এক পা হারিয়ে অনিমেষ প্রায়ই মুষড়ে গিয়ে স্বাভাবিক ভাবে জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে উঠে।পাশাপাশি মাধবীলতাও ছেলে এবং স্বামীর সাথে জীবনের এতগুলো বছর কাটিয়ে দেয়।অর্ক একটা চাকরি করে।সে কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সক্রিয় ভাবে যুক্ত নয়।জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর একেবারে গুটিয়ে নেয় নিজেকে।কিন্তু যেহেতু অনিমেষের রক্ত তার শরীরে বহমান সে কি পুরোপুরি নিজেকে গুটিয়ে রাখতে পারে?এক মাওবাদী অবাঙ্গালী কে সাহায্য করতে গিয়ে পরোক্ষভাবে তৃণমূলের এক রাজনৈতিক দলের সাথে কিছুটা জড়িয়ে পরে।অনিমেষ সেটা মন থেকে পছন্দ না করতে পারলেও তাকে সরাসরি নিষেধ করেনা।কিন্তু মাধবীলতা সেটা মেনে নিতে না পেরে তাকে নিষেধ করে এই রাজনীতি থেকে সরে আসতে বলে।অন্যদিকে অনিমেষ তার ছেলের ওই অবাঙ্গালী মাওবাদীকে বন্ধুকে পছন্দ না করলেও অগত্যা সেও তাকে সাহায্য করে।আর এই সুবাদেই অনিমেষকে ফাঁসিয়ে দেয়া হয়।আর অর্ককেও সেই একই চক্রান্তের স্বীকার হতে হয়।যেটা মাধবীলতা মন থেকে বারবারই অপছন্দ করেছিলো।তাই পঁয়তাল্লিশ বছর ধরে যেই স্বামী সন্তানের পাশে থেকে আগলে রাখতে চেয়েছিলো আদতে সেই মাধবীলতা-ই তাদের বিপদের দিনে নীরব থাকে।অন্যদিকে কুন্তি,এক ধর্মশালায় অর্কের সাথে পরিচয় হয়।সে অর্ককে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে,তার পাশে থাকতে চায়।অর্কেরও কুন্তিকে ভালো লাগে।কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে কি পারবে মাধবীলতা হয়ে উঠতে?

পাঠ প্রতিক্রিয়া : মৌষলকাল অনিমেষ সিরিজের শেষ উপন্যাস।এই সিরিজের প্রথম দুটো উপন্যাস, উত্তরাধিকার – কালবেলা এই দুটো বই আমার বেশি ভালো লেগেছে।উত্তরাধিকার পড়েই জানতে পারলাম এই সিরিজের বাকি তিনটা বইয়ের কথা।আর তারপরই পড়ে ফেললাম কালবেলা-কালপুরুষ।প্রথম তিনটা বই আমি গত বছরই পড়েছি।আর এখন মৌষলকাল পড়লাম। প্রথম তিনটা বইয়ের তুলনায় শেষ বইটা আমার কাছে তুলনামূলক ভাবে কম ভালো লেগেছে।মৌষলকাল পড়ে আমি অতটা তৃপ্তি পাইনি।কারণ অনিমেষ – মাধবীলতাকে আমার সেই যৌবন বয়সেই বেশি ভালো লেগেছে।তাই তাদের ষাটোর্ধ্ব বয়স,আর তার পাশাপাশি চল্লিশ বছর বয়সের যুবক অর্ককে মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছিলো।কেবল মনে হচ্ছিলো তরুণ বয়সের অনিমেষ-মাধবীলতাই মানানসই সেরা জুটি ছিলো।বইটা পড়ে শেষ করার পর শুধুই মনে হচ্ছিলো এটা নিয়ে আমি কিছুই লিখতে পারবোনা।কেননা বইটা ততটা টানেনি আমাকে।তাই বইটা কতটা ধারণ করতে পেরেছি সেটাও বুঝতে পারছিনা।যাই হোক,একথা স্বীকার করতেই হবে যে, সর্বপরি গোটা সিরিজটা সমরেশ মজুমদারের এক অনবদ্য সৃষ্টি।
কিছুদিন আগে সমরেশ মজুমদার বাংলাদেশে এসেছিলেন।তিনি ঢাকা এবং সিলেটের বাতিঘরে গিয়েছিলেন।লেখকের অফিসিয়াল ফ্যানপেজ থেকে তার এক একটা পোস্ট পড়ে জানতে পারলাম, সিলেটের বাতিঘরে তিনি এক আলোচনায় পাঠকদের বলেছিলেন এই সিরিজের কিছু কথা।তিনি বলেছিলেন এই সিরিজটা তিনি মন থেকে লেখেননি।জোর করে লিখতে হয়েছে সিরিজটা অনেকটা বাধ্য হয়েই।কথাটা লিখলাম এই কারণেই,কোন লেখক বাধ্য হয়ে এতো চমৎকার বই কিভাবে লিখতে পারে?অন্তত এই সিরিজটা শেষ করার পর ব্যাপারটা সত্যিই আমাকে ভাবিয়েছে অনেকবার।

বইকে ভালোবাসুন,বইয়ের সাথে থাকুন।বই হোক নিত্যসঙ্গী।
হ্যাপি রিডিং।

গুলো হতে করুন

pdf Download2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *