অবরোধ বাসিনী বেগম রোকেয়া Pdf download

d অবরোধ বাসিনী বেগম রোকেয়া Pdf download

Oborodh Bashini pdf – অবরোধ বাসিনী pdf

বইয়ের নামঃ অবরোধ-বাসিনী
লেখকঃ বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
ধরণঃ প্রবন্ধ
প্রকাশকালঃ ১৯৩১ (১ম)
প্রকাশকঃ সুচয়নী পাবলিশার্স
মূল্যঃ ৪৫/-
বেগম রোকেয়া বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারীবাদী লেখিকা। স্বামীর অনুপ্রেরণায় তিনি সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। ১৯০৯ সালে স্বামীর নামানুসারে ভাগলপুরে প্রতিষ্ঠা করেন “সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল”, যা ঐ সময়কালে সাহসিকতার কাজ ছিল।
নারীদের কুসংস্কারমুক্ত ও শিক্ষিত করতে এবং সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ করেছিলেন।
” অবরোধবাসিনী” লেখিকার শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত। এটি পর্দাপ্রথা নির্ভর হাস্যরসাত্মক রচনা।
বেগম রোকেয়া যে সময়ে জন্মেছিলেন তখন নারীদের ঘরের এক কোণে পর্দার আড়ালে থাকাটাই ছিল সামাজিক নিয়ম। তারা পড়াশুনা করতে পারত না, সে অধিকার তাদের ছিল না। বেগম রোকেয়া নিজের জীবনে এসব সামাজিক কুসংস্কারগুলোর মুখোমুখি হয়েছেন, মোকাবেলা করেছেন এবং তাই তিনি চান নি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মেয়েরা এসব কুসংস্কারের বলি হোক। মেয়েদের স্বাবলম্বী করার জন্য, সমাজের সমস্ত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে মোকাবেলা করার জন্য আজীবন লড়াই করে গেছেন তিনি।
“অবরোধবাসিনী” কে হাস্যরসাত্মক রচনা বলা হলেও হাসির বিপরীতে তিনি পর্দাপ্রথার নামে সমাজের সমস্ত অনিয়ম তুলে ধরেছেন সুচারুরূপে। বইটিতে ৪৭ টি কাহিনি রয়েছে।

কাহিনি বললে হয়ত ভুল হবে, কারণ এগুলো সত্য ঘটনা। এ ঘটনাগুলো পড়তে পড়তে আমার একদম হাসি আসেনি, বরং অবাক হয়েছি এই ভেবে সমাজের এসব কুসংস্কারের মুখোমুখি কেন মেয়েদেরকেই হতে হল?

কখনো পর্দা যেন নষ্ট না হয় সেজন্য কোলের বাচ্চাসহ তীব্র শীতে পালকির মাঝে রাত কাটিয়েছেন এক মহিলা, কখনোবা আগুনে পুড়ে মরেছেন একজন, তবুও পর্দা নষ্ট হতে দেন নি।
আবার পর্দানশীন নারীদের “আসবাব” বলা হলো কোন এক ঘটনায়।
এক নারী একই পোশাকের আরেকজন ব্যক্তিকে নিজের স্বামী ভেবে বসেছিলেন কারণ পর্দার কারণে তিনি তার নিজের স্বামীর মুখ ভালো করে দেখতেই পারেন নি।
কোথাও বা বিয়ের পর মেয়েদের অন্ধকার ঘরে বন্দি করে রাখা হতো পর্দার নাম করে।
উল্লেখ্য, বেগম রোকেয়া এখানে পর্দাকে ব্যঙ্গ করেন নি। ব্যঙ্গ করেছেন পর্দাপ্রথার নামে সামাজিক কুসংস্কার কে।
বলা বাহুল্য উনার তীব্র প্রচেষ্টায় মেয়েরা ঘরের বাইরে আসতে পেরেছে, শিক্ষা গ্রহণ করতে পেরেছে।
আজ যখনই কোন মেয়ে জীবনে সাফল্য অর্জন করে, আমার তখন বেগম রোকেয়ার কথাই মনে পড়ে।
তবে আজকের যুগে দাঁড়িয়ে পর্দাপ্রথা নামক সামাজিক কুসংস্কার কিছুটা লোপ পেলেও মানসিক অবরোধ কি লোপ পেয়েছে? আমরা কি এখনো মনের দিক দিয়ে দুর্বল নই? কিংবা নিজেদের চিন্তা করিনা? এখনো কি বৈষম্যের শিকার হতে হয় না মেয়েদের? কিংবা প্রশ্নবাণে জর্জরিত হতে হয় না? দোষারোপ করা হয় না? কারণে… অকারণে… প্রশ্ন রইল..
শেষ করব “অবরোধবাসিনী” র উক্তির মাধ্যমে…
“আমরা বহুকাল হইতে অবরোধ থাকিয়া অভ্যস্ত হইয়া গিয়াছি; সুতরাং অবরোধের বিরুদ্ধে বলিবার আমাদের – বিশেষত কিছু নাই।”
link

Leave a Reply

Your email address will not be published.