মগরাজ pdf Download by রবিন জামান খান – mograj pdf

mograj pdf
Titleমগরাজ pdf
Author
Publisher
ISBN9789849540397
Edition1st Published, 2021
Number of Pages560
Countryবাংলাদেশ
Languageepub, MOBI, Pdf free Download(পিডিএফ ডাউনলোড)

 

মুদ্রিত মূল্য : ৭০০ টাকা
জনরা : হিস্ট্রিক্যাল থ্রিলার

প্লট : *ফলো ইউর হার্ট*
ভারতবর্ষ, বহু শতক, হাজার বছর আগে থেকেই যে অঞ্চল বিখ্যাত নানা কারণে। দিল্লির ক্ষমতায় আরোহণের জন্য তখন সম্রাট শাহজাহানের পুত্রদের মাঝে যুদ্ধের আভাস। তুলনামূলক শান্তিপ্রিয় অঞ্চল বাংলার সুবাদার শাহ সুজাও যুদ্ধের প্রস্তুতি নিলেন চূড়ান্ত ক্ষমতায় আসীন হওয়ার জন্য। দিল্লি অভিমুখে যাত্রা করেও বড় ভাই দারা শিকোর বাহিনীর কাছে পরাজিত হন শাহ সুজা এবং ফিরে আসেন বাঙাল মুল্লুকে। কিছুদিন পর আবারও খবর পান আরেক ভাই আওরঙ্গজেবের কাছে পরাজিত হয়েছে দারা শিকো। আবারও ক্ষমতা পাওয়ার নেশা চড়ে বসে শাহ সুজার মাথায়, অগ্রসর হন দিল্লির পথে। ভাগ্যের ফেরে এবারও পরাজিত হন এবং পালিয়ে এসে আশ্রয় নেন আরাকান রাজ দরবারে। বিশ্বাসঘাতক আরাকান রাজার নজর ছিলো শাহ সুজার সাথে থাকা সমস্ত সম্পদ ও তার কন্যার দিকে। গভীর রাতে হামলা হয় তাদের উপর। কোনমতে প্রাণ বাঁচিয়ে পাশের জঙ্গলে আশ্রয় নেন শাহ সুজা ও তার একান্ত বন্ধু তালেব তৈমুর। অন্যদিকে বিভিন্ন ধার দেনায় জর্জরিত কিরানের সামনে সুযোগ আসে এই ধার-দেনা মিটিয়ে আবারও আগের সুন্দর জীবনে ফিরে আসার। কাজ শুধু একটাই, দক্ষিণের সাগরে ত্রাস চালানো মগ ও পর্তুগীজ জলদস্যু বাহিনীকে পরাস্ত করতে হবে। শুরুতে রাজি না হলেও পরে যখন জানতে পারে এই মগ ও জলদস্যু বাহিনী পিছু নিয়েছে তার বাবার জাহাজের, তখন বাবাকে বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য সে বাহিনী গঠন করে, সম্মুখ সমরে নামে ভয়ংকর ও অত্যাচারী জলদস্যুদের বিরুদ্ধে।
.
চট্টগ্রামের কিছু ধনী পরিবারের বখে যাওয়া ছেলেমেয়েরা এক বৃষ্টির রাতে গাড়ি নিয়ে বের হয় লং ড্রাইভে। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালাতে গিয়ে ধাক্কা মেরে দেয় একজন লোককে। ঘটনাস্থলেই মারা পড়ে লোকটি। লোকটির মৃত্যুর পরে আনাগোনা বেড়ে যায় কিছু চক্রের, লাশটি পুলিশ উদ্ধার করে কিন্তু চেষ্টা চালানো হয় লাশটি চুরি করার। অন্যদিকে, ট্রেনিং শেষ করে দেশে এসে উর্ধবতন কর্মকর্তাদের না জানিয়েই নিজের রেসিং ট্র‍্যাকে ছুট দেয় এজেন্ট শারিয়ার এবং সেখানে গোলমাল বাধায় বাইক মাস্টারের সাথে। তাকে এরপর ধরে আনা হয় সেলে এবং বলা হয় চট্টগ্রামে যেতে, সেখানে একজন লোকের দুর্ঘটনার মৃত্যুর সাথে জড়িত রহস্য সমাধান করতে। সেখানে গিয়েই এজেন্ট শারিয়ার জড়িয়ে পড়ে এমন এক রহস্যের জালে, যার সূত্রপাত হয়েছিলো মধ্যযুগের মোঘল আমলে এবং মগ, পর্তুগিজ জলদস্যুদের সময়ে।

পাঠ প্রতিক্রিয়া : ইতিহাস বিষয়টা আমার খুব পছন্দ বলে ঐতিহাসিক প্লটের থ্রিলার বই আর সিনেমাগুলো সবসময়ই আমাকে টানে। আর ইতিহাস আশ্রিত থ্রিলার লেখকদের মাঝে রবিন জামান খান আমার অন্যতম পছন্দের। লেখকের সপ্তরিপু বইটা দিয়েই তার লেখা বইগুলো পড়া শুরু করি এবং আস্তে আস্তে ব্ল্যাক বুদ্ধা, ২৫শে মার্চ পড়ে শেষ করি। উনার বইগুলো পড়লেই বোঝা যায় অনেক গবেষণা ও পরিশ্রম করে লেখা হয় সেগুলো। মগরাজ বইটার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম অনেক। বলতেই হয় যে, বইটা নিরাশ করেনি আমাকে।
বইটির প্রথম পৃষ্ঠা থেকেই গল্পের আকর্ষণ এমনভাবে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরেছিল যে বইটা শেষ না করা পর্যন্ত কাহিনীটা মাথার ভেতরেই ঘুরছিলো। নিতান্তই ব্যস্ততার মধ্যে পড়া বলে ৪ দিন লেগেছে, নাহলে এই বই দুইদিনেই পড়ে শেষ করে ফেলার মতো। গল্পের প্রতিটা চরিত্রকে বেশ অনেকখানি সময় নিয়েই তৈরি করা হয়েছে, যে কারণে মূল কাহিনী ১৫০-২০০ পেজ পর শুরু হয়। কিন্তু গল্পের গভীরে যাওয়ার জন্য এবং প্রতিটা চরিত্রের সাথে অভ্যস্থ হওয়ার জন্য এটা খুবই জরুরী ছিলো। গল্পের চরিত্রগুলোকে খুবই ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
লেখকের অন্যান্য বইয়ের মতো এই বইয়েও দুটি ভিন্ন সময়ে দুজন প্রধান চরিত্র থাকে। একজন অতীতের কিরান আরেকজন বর্তমানের শারিয়ার। একদিকে বাবাকে বিপদ থেকে বাঁচানোর জন্য কিরানের আপ্রাণ চেষ্টা আর জলদস্যুদের হারানোর জন্য বিশাল বাহিনী গঠন, অন্যদিকে রহস্য উদ্ধারের পথে শারিয়ারের একের পর এক বিপদের সম্মুখীন হওয়া, ধোঁকা খাওয়ার সাথে সাথে বইটি পড়ার সময়ে প্রতিটা পাতা উল্টানোর সাথে সাথে মনে হচ্ছিলো “কী হবে এরপর?” সাইড ক্যারেক্টার গুলোও যথেষ্ট শক্ত ভূমিকা পালন করেছে এই বইয়ে। গোমেজ, পদ্ম, ভুবন, টমি সবাই-ই এই বইয়ে সমান গুরুত্বপূর্ণ রোল প্লে করেছে প্রতিটা মুহূর্তে। নি:সন্দেহে বলা যায় দুর্দান্ত কাহিনীর বইটি আমার কাছে যথেষ্ট উপভোগ্য লেগেছে।

বইয়ের প্রোডাকশন এবং কিছু কথা : বইয়ের প্রোডাকশন বেশ ভালো। বিশাল কলেবরের বইটির ওজনও যথেষ্ট ভারী অন্যান্য বইয়ের তুলনায়, পড়ার সময় টেবিলে রেখে পড়তে হয়েছে বেশিরভাগ সময়। বাইন্ডিং মজবুত, প্রোডাকশন নিয়ে কোথাও কোন খুঁত নেই। তবে বইতে প্রিন্টিং এ ভুল আছে বেশ অনেক। অন্তত দুইটা চ্যাপ্টারে শারিয়ারের নাম বারবার তানভীর বলা হয়েছে। এছাড়াও আরেক জায়গায় কিরানের নামের স্থলে শারিয়ার লেখা হয়েছে। এছাড়াও বইজুড়ে ছোটখাটো বেশ কিছু বানান ভুল চোখে পড়েছে। তবুও, বেশ উপভোগ্য বই। যারা এখনো পড়েননি তারা পড়ে দেখতে পারেন, আশা করি সময়টা খারাপ কাটবে না। বইয়ের শেষে লেখক তার পরবর্তী বই রাজদ্রোহীর আভাস দিয়ে গেছেন।

এটি আমার প্রথম রিভিউ, আশা করি ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *